বৃহস্পতিবার , জানুয়ারি ২০ ২০২২

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মজিদ।

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

সমস্ত পা জুড়ে যন্ত্রণা! মনে হয় যেন সাইট্রোপ্লাজমের মতো থকথকে গুটি গুটি পোকা পা নয় হৃদয় ছিড়ে খাচ্ছিলো মজিদের।

নিজ উদ্যোগে অসুস্থ মজিদের পচনধরা পায়ের চিকিৎসা করালেন মানবিক মানুষ আকরাম হোসেন বাদশা। শুধু চিকিৎসা নয় অফুরন্ত শান্তি ও সুখের নীড় গড়ে দিয়েছেন মজিদের পরিবারকে।

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বাগমারা ছাপড়া মসজিদ এলাকায় আব্দুল মজিদ (৭০) নামে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বসবাস করে আসছিলো প্রায় ১৫ বছর ধরে।

যে কিনা এমন সময়ে একটু শান্তি মাখা জীবন পার করবেন!
যৌবন সময়ে পরিশ্রম করেছেন এখন আর তেমন অবস্থা নেই। দীর্ঘদিন পূর্বে কোনাবাড়ির একটি কেমিক্যাল করখানায় কাজ করতেন অসহায় মজিদ ছেলে সন্তান নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে পাড় করছিলো কর্মজীবন। কারখানার চাকরি ছাড়ার পর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে ।মজিদ বাম পায়ে দীর্ঘদিন যাবৎ নয় এমন সময় তার জীবনে নেমে এলো এক অশান্তির তেপান্তর। এমন অবস্থায় মজিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন আকরাম হোসেন বাদশা এবং শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন নিজ উদ্যোগে। পরবর্তীতে পচনধরা পা কেটে ফেলে মজিদকে নতুনভাবে চলার শক্তি জোগায় নতুনভাবে বেঁচে থাকার। পা কাটার পর বেশ কয়েকদিন চিকিৎসার পর মজিদ এখন অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

গত ৮ই অক্টোবর ২০২১ইং রোজ শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বাগমারা ছাপড়া মসজিদ এলাকায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে তার বাড়িতে যান। পরে বৃদ্ধ মজিদের এমন অবস্থা দেখে তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাৎক্ষণিক মানবিক মানুষ আকরাম হোসেন বাদশা গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করেন এবং নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। আব্দুল মজিদ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসার সকল দায়-দায়িত্বও নেন তিনি।

০৫ ই নভেম্বর ২০২১ ইং শুক্রবার বিকেল ৩ টার সময় বংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ উপ কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জনাব আকরাম হোসেন বাদশা নিজে উপস্থিত থেকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অন্যান্যদের নিয়ে সুস্থ মজিদকে দেখতে যান ও তার সুস্থতার জন্য দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন।
পাশাপাশি মজিদের চলাচলের জন্য একটি হুইল চেয়ার প্রদান করেন।

এসময় সুস্থ হওয়া মজিদ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান দীর্ঘদিন পূর্বে গাজীপুরের কোনাবাড়ির একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে কাজ করছি অনেক দিন। পরবর্তীতে বার্ধক্যজনিত কারণে চাকরিটা ছেইড়া দেই। অনেকদিন বাড়িতে বসে থাকি ছোট পোলাডা কিছুই করবার পারেনা।সংসারে সকলেই আমার উপার্জনের দিকেই তাকায় থাকতো।
তখন আমার পায়ে একটি ফোরা হয় সে ফোরা থেকে আস্তে আস্তে পায়ে গা হতে থাকে সেখান থেকে পচন ধরে। তা নিয়ে চিকিৎসার খরচ বহন করতে করতে পেরেশান হয়ে যাই। তখন এক সংবাদ কর্মীর মাধ্যমে মানবতার ফেরিওয়ালা আকরাম হোসেন বাদশা আমার চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে দেন।
আমি উনার জন্য আল্লাহ্ র কাছে দোয়া করি।

আকরাম হোসেন বাদশাহ বলেন, পায়ে পঁচন ধরায় মজিদের দুঃসহ যন্ত্রণা আমাকে কষ্ট দিয়েছ, মানবিকতার জায়গা থেকে পচন ধরা পায়ের চিকিৎসা করিয়েছি সার্বিক ভাবে মসজিদের জন্য সকলের সহযোগিতা ছিল বিশেষ করে ডাক্তার শঙ্করের প্রতি, উনার নিরলশ প্রচেষ্টার ফলে মজিদ এখন পুরোপুরি সুস্থ। আব্দুল মজিদ জানান, আকরাম হোসেন বাদশার সহযোগিতায় আল্লাহ আমাকে মৃত্যু যন্ত্রনার হাত থেকে বাঁচিয়েন।এখন আমি সুস্থ আছি। মজিদ কে চিকিৎসার জন্য সার্বক্ষণিক দেখাশুনা করেছেন কলামিস্ট সাঈদ চৌধুরীর, তিনি জানান, অসুস্থ মজিদ আজ সুস্থ, আমাদের সকলের সহযোগিতায় স্বাভাবিক জীবন পেলো মজিদ, এটাই প্রাপ্তি। পাশাপাশি সহযোগিতা করেছেন আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক রাজীবুল। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।

Check Also

রাতের শেষ প্রহরে তালা কেটে গরু চুরি!

রাতের শেষ প্রহরে তালা কেটে গরু চুরি! গাজীপুর প্রতিনিধিঃ শেষ রাতে গোয়াল ঘরের তালা কেটে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: