শনিবার , জানুয়ারি ১৬ ২০২১
Home / সারা দেশ / বাঁশের সাঁকোয় জীবন পাড়।

বাঁশের সাঁকোয় জীবন পাড়।

মনিরুজ্জামান লেবু নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ১৪টি গ্রামের হাজারো মানুষকে। নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর-চাপড়া সরমজানী ও চড়াইখোলা ইউনিয়নের সংযোগ এই সাঁকোর পরিবর্তে দ্রুত আরসিসি ব্রীজ নির্মাণের দাবী স্থানীয়দের।পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তর কাচারী পাড়া-কারবালার ডাঙ্গা এলাকার উপর দিয়ে বহমান যমুনেশ্বরী নদীর উপর অবস্থিত এই বাঁশের সাঁকো। বাব দাদার আমল থেকে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। আগে গরুর লেজ ধরে পাড়াপাড় হতেন পথচারীরা এমনকি অনেকে এভাবে না যেতে পারায় অতিরিক্ত একটি কাপড় সেট সাথে নিয়ে নদী অতিক্রম করে কাঙ্খিত এলাকায় যেতো হতো তাদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উত্তর কাচারী পাড়া হয়ে বাঁশের সাঁকো অতিক্রম করে যেতে হয় কারবালার ময়দান। সেখানে নামাজ আদায় করেন ১৪টি গ্রামের মানুষ। বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে বাইসাইকেল, অটো রিকসা কিংবা মটরসাইকেল যাতায়াত করলেও ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে এসব যানবাহনকে। যে কোন মুহুর্ত্বে ধ্বসে যেতে পারে সাঁকোটি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম আসলে প্রতিদিনই ঘটে কোন না কোন দুর্ঘটনা। যার কারণে বর্ষার আগেই স্থানীয়রা নগদ টাকা, বাঁশ এবং শ্রম দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে থাকেন। এতে সহযোগীতা করে ইউনিয়ন পরিষদ।
এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম(৫৫) জানান, বাব দাদার আমল থেকে আমরা বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে নদী অতিক্রম করে আসছি। বর্ষা মৌসুমে যেন কষ্টের শেষ থাকে না। অনেককে নদীতে পড়ে যেতে হয়েছে। অনেকে আশ্বাস দিয়েছেন। ইঞ্জিনিয়ার এসে মাপজোক করে নিয়ে গেছে কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না আরেক পথচারী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বর্ষার আগে যাতায়াত সুবিধার জন্য স্থানীয়রা উদ্দ্যেগী হয়ে নগদ টাকা, বাঁশ সংগ্রহ করে থাকেন। পরে সবাই মিলে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। গৃহবধু তানজিনা বেগম বলেন, এখানে ব্রীজ হলে যাতায়াতের অনেক সুবিধা হয়। কোথাও যেতে হলে সহজে যানবাহন পাওয়া যায় না। সহজে কেউ আসতে চায় না। এলাকাটিও পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, বর্ষাকালে দশ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয় অনেককে। এরফলে দুর্ভোগে পোহাতে হয়। পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হবিবর রহমান সরকার বলেন, এখানে ব্রীজ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। বাঁশের সাঁকো স্থাপনে আমরা সহযোগীতা করে থাকি। দ্রুত ব্রীজটি হয়ে গেলে দুর্ভোগ কমে যাবে স্থানীয়দের। জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নীলফামারীর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় ব্রীজ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অফিসিয়ালি যা যা করার দরকার আমরা করেছি এবং একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। পাস হয়ে আসলে দ্রুত  কাজ শুরু করা হবে।

Check Also

নীলফামারীতে গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা।

মনিরুজ্জামান লেবু নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীতে গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: