রবিবার , জুলাই ২৫ ২০২১
Home / সারা দেশ / কক্সবাজার -টেকনাফ সড়ক কেটে-খুঁড়ে একাকার,জন দূর্ভোগ চরমে

কক্সবাজার -টেকনাফ সড়ক কেটে-খুঁড়ে একাকার,জন দূর্ভোগ চরমে

সোহেল মোহাম্মদ মুবিন চৌধুরী, উখিয়া কক্সবাজারঃ বছরখানেক ধরে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। দুদিন চলে, তো বন্ধ থাকে ৩ দিন। বৃষ্টি হলে এ মেয়াদ আরো বাড়ে। গাড়ি কিংবা রিকশা নিয়ে যাতায়াত করা তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচলেরও উপায় নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিকল্প পথে চলতে হচ্ছে পথচারীদের। বিভিন্ন অলি গলি বেঁছে নিতে হয় এলাকাবাসীকে। সেগুলোর অবস্থাও খারাপ।

সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য চলছে রাস্তা খুঁড়োখুঁড়ির কাজ। আবহাওয়া শুস্ক হলে ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন, আর সামান্য বৃষ্টি হলে পুরো এলাকা হয় জল কাদায় একাকার। এ বর্ণনা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার ব্যস্ততম এলাকা কোটবাজারের। উখিয়ার মরিচ্যা স্টেশন থেকে থাইংখালি স্টেশন পর্যন্ত হাজারো গর্ত থাকায় চালকেরা ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছেন না।

মাসের পর মাস চলে যায়, কাজ যেন শেষ হয় না। এলাকাবাসীর ধারণা, ঠিকমতো কাজ করলে এই সড়কটি সম্পূর্ণ ঠিক হতে সময় লাগত ২০ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১ মাস। সারা বছর জুড়ে কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান দেখতে পর্যটকদের ভীড় লেগেই থাকে। উখিয়ার রুপসী কন্যা ইনানী সমুদ্র সৈকত, কানা রাজার গুহা, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও টেকনাফের মাথিনের কুপ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখতে আসা ভ্রমণ পিপাসু মানুষের রাস্তা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটি এমন অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত যেমন আমাদের কক্সবাজারে, তেমনি বিশ্বের দীর্ঘতম শরণার্থী শিবিরও রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ায়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেবা দিতে আসা শত শত এনজিওর হাজারো গাড়ি চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়া এবং দীর্ঘ যানজটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারা ঠিকমতো অফিস-আদালত, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারছেন না।

রাস্তা খারাপ হওয়ায় ভিন্ন পথ বেছে নিতে হচ্ছে তাদের। উখিয়া সদর কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তমিম দারি। কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সবসময় উখিয়া-কোটবাজার সড়ক দিয়ে সী লাইনে করে অথবা বাসে উঠে কলেজে যাতায়াত করতেন। কিন্তু রাস্তাটি খুঁড়ে রাখায় এই পথ দিয়ে চলাচল করা একে বারেই বন্ধ করে দিয়েছেন এই শিক্ষার্থী। এখন ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ছলাচল করেন।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সব সময় উখিয়া কোটবাজার সড়ক দিয়ে কলেজে যাতায়াত করতাম। কোটবাজার স্টেশনে বড় বড় গর্তের কারণে পানি জমে থাকে। আবহাওয়া শুস্ক হলে ধুলোবালি আর বৃষ্টি হলে কাদামাটি। পরিস্কার কাপড়-চোপড় গাঁয়ে দিলে, খুব তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যায়। তাই দু-তিন মাস ধরে এক বন্ধুর সাথে বাইকে করে বিকল্প রাস্তা উখিয়া বঙ্গমাতা মুজিব মহিলা কলেজ হয়ে পাতাবাড়ি মরিচ্যা বাজার রাস্তা দিয়ে কলেজে যাতায়াত করি।

তার অভিযোগ, একটি রাস্তার কাজ শেষ হতে এত সময় লাগার কথা নয়। সেটা কি দেখার কেউ নেই। একই অভিযোগ এলাকার বাসিন্দা আহসান সুমন, সরওয়ার আলম, কহিনুর আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, শফিউল ইসলাম আজাদ, রেহেনা বেগম, হানিফ আজাদসহ আরো বেশ কয়েকজনের।

Check Also

শ্রীপুরে উঠান বৈঠকে গ্রাহকদের সাথে মতবিনিময় করলেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক।

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ   গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা শাখা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আমার বাড়ী আমার খামার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: